শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্যাংক ও বিমা ডেস্ক, ঢাকা ॥
বাজারে প্রচলিত ১০, ২০ ও ৫০ টাকার ব্যাংক নোটে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। এসব নোটের নিরাপত্তা সুতা (Security Thread) সংযোজনের জন্য দীর্ঘদিনের সহযোগী যুক্তরাজ্যের কোম্পানি ডি লা রুই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডকে বাদ দিয়ে জার্মানির একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন এই চুক্তির ফলে নোট মুদ্রণ ব্যয়ে বছরে প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমান নির্বাচিত সরকারের অধীনেই এই নতুন চুক্তিটি সম্পাদিত হতে যাচ্ছে।
দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা জার্মান কোম্পানি
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিরাপত্তা সুতা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৫ বছর মেয়াদি চুক্তির লক্ষ্যে ২০২৪ সালে একটি আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। গত ১৭ ডিসেম্বর দরপত্র জমা দেওয়া তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কারিগরি ও আর্থিক দিক বিবেচনায় জার্মানির ‘মেসার্স পেপারফেব্রিক লুইজেনথাল জিএমবিএইচ’ সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে নির্বাচিত হয়।
প্রতিষ্ঠানটির প্রস্তাবিত নিরাপত্তা সুতার নমুনা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘নোট ও মুদ্রা ডিজাইন অ্যাডভাইজরি কমিটি’ পরীক্ষা করেছে। ব্যাংকের লোগো এবং টেক্সট স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান রাখার শর্তে ১০, ২০ ও ৫০ টাকার নোটে এই সুতা ব্যবহারের বিষয়ে কমিটি সবুজ সংকেত দিয়েছে।
খরচ কমবে ৩৫ শতাংশেরও বেশি
অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক উল্লেখ করেছে, জার্মানির প্রস্তাবিত ‘মাল্টিকোড’ নিরাপত্তা সুতার দাম যুক্তরাজ্যের ডি লা রু-র ‘স্টারক্রোম’ সুতার তুলনায় প্রায় ৩৫.৫৫ শতাংশ কম। কিলোমিটার প্রতি দরের হিসেবে জার্মানির কোম্পানি ১৬.৬০ ইউরো প্রস্তাব করেছে, যা ব্রিটিশ কোম্পানির দরের চেয়ে ৮.৮ শতাংশ সাশ্রয়ী। এই দর পার্থক্যের কারণে প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় কোষাগারের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হবে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও কারিগরি প্রক্রিয়া
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন আগে অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই প্রস্তাবনাটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুক্তরাজ্যের ডি লা রু ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে নিরাপত্তা সুতার চুক্তি থাকলেও, এখন কারিগরি ও আর্থিক স্বচ্ছতার ভিত্তিতে জার্মানির কোম্পানিটিকে বেছে নেওয়া হচ্ছে।
অনেকে মনে করছেন, বিগত সরকারের সঙ্গে ব্রিটিশ কোম্পানির সখ্য বা তাদের প্রচারপত্রে বাংলাদেশি নোটের ব্যবহার (২০২০ সালের ঘটনা) বাদ পড়ার কারণ হতে পারে। তবে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, এটি সম্পূর্ণ একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, “টেন্ডারে যারা সর্বনিম্ন দরদাতা হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী তাদের সঙ্গেই চুক্তির অনুমোদন চাওয়া হয়েছে। এখানে অন্য কোনো কারণ নেই।”
বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা এই প্রস্তাবটি কার্যকর হলে আগামী পাঁচ বছর জার্মান কোম্পানিটিই বাংলাদেশের ছোট মানের নোটগুলোর নিরাপত্তা সুতা সরবরাহ করবে।